🔔 এটি মুক্তি এর একটি আপডেটেড সংস্করণ, প্রকাশিত হয়েছে মার্চ ২০২৫ সালে

Muhtiikunja model

মুক্তিকুঞ্জ

দরিদ্রের আশা-আকাঙ্ক্ষার এক ভিশন

Muktikunja image
Muktiikunja Logo

ভূমিকা

আশা-আকাঙ্ক্ষা, এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসা নিয়ে মুক্তি নামক দাতব্য সংস্থা তাদের আরেকটি বৃহৎ প্রকল্প মুক্তিকুঞ্জ শুরু করেছে, যেখানে গৃহহীন এবং ভূমিহীন মানুষ মাসিক মাত্র ১০০-২০০ টাকা ভাড়া দিয়ে আবাসিক সুবিধা পেয়ে থাকবেন। মুক্তিকুঞ্জর মূল উদ্দেশ্য দরিদ্রদের কার্যকরীভাবে সহায়তা প্রদান করা। এই প্রকল্পের জন্য জমি, নির্মাণ এবং অন্যান্য সকল আনুষঙ্গিক ব্যয় সম্পূর্ণভাবে কাজী আবদুল খালেক কর্তৃক অর্থায়িত হয়েছে।

Project Overview

মুক্তিকুঞ্জ প্রকল্পের সারসংক্ষেপ

মুক্তিকুঞ্জ কমপ্লেক্সে মোট পাঁচটি আলাদা ভবন থাকবে, প্রতিটি ভবন পাঁচ তলা এবং প্রতি ফ্লোরে ২০টি ফ্ল্যাট থাকবে, মোট ১০০টি ফ্ল্যাটে প্রায় ৪০০-৫০০ জন লোক বসবাস করতে পারবে। এই প্রকল্পটি কাজী আবদুল খালেক ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শুরু করেছেন। বর্তমানে দুটি ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে, এবং তৃতীয়টি শীঘ্রই শুরু হবে। বাকি দুটি ভবনও সামনে নির্মাণ করা হবে। আশা করা হচ্ছে, প্রথম তিনটি ভবন ডিসেম্বর ২০২৫ এ নির্মিত হবে এবং গৃহহীনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে, ইনশাআল্লাহ!

Project Overview

যারা থাকার সুযোগ পাবেন

বাসস্থানের জন্য কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত শর্তাবলী রয়েছে, যারা এই শর্ত পূরণ করবেন তারাই এই ফ্লাটগুলোতে থাকার সুযোগ পাবেন। উদাহরণস্বরুপ, আবেদনকারীকে গৃহহীন হতে হবে।

Project Overview

পারস্পারিক সহমর্মিতার সমাজ

এই প্রকল্পটির লক্ষ্য হল, এমন কমিউনিটি গঠন করা যেখানে অধিবাসীরা একে অপরকে সম্মান এবং সহযোগিতার সঙ্গে সহায়তা করবে। যেখানে সংঘাত বা রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকবে না। মুক্তিকুঞ্জা একটি আদর্শ সমাজের মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এছাড়া, প্রকল্পটি এমন একটি সম্প্রদায় তৈরি করতে চায় যেখানে পরিবারগুলো এতিম সন্তানদের দত্তক গ্রহণ ও লালন-পালন করবে, তাদের ভালোবাসা, যত্ন, এবং স্থায়িত্ব প্রদান করবে যা এতিমখানাগুলো দিতে ব্যর্থ হয়ে থাকে। প্রাতিষ্ঠানিক যত্নের তুলনায় এখানে ব্যক্তিগত সহায়তা এবং গৃহপরিবারের স্নেহে শিশুদের বিকাশের সুযোগ হবে। যারা এতিম সন্তান লালন-পালন করবেন তারা আর্থিক সহায়তা, খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রণোদনা পাবেন।

Project Overview

যেভাবে পরিচালিত হবে

একটি স্বেচ্ছাসেবক কমিটি প্রতি দুই বছরে নির্ভরযোগ্য, সৎ, এবং সক্ষম প্রতিনিধি দ্বারা গঠিত হবে। এই কমিটিকে কেবল মুক্তিকুঞ্জর বাসিন্দাদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে। এই ভোটিং পদ্ধতি নিশ্চিত করবে, কমিটিতে যারা থাকবেন তারা প্রকল্পের সফলতায় গভীরভাবে আগ্রহী।

Project Overview

ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা

বাসিন্দাদের জন্য একটি সুপার শপ থাকবে সেখান থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় করতে পারবে এবং একটি ক্যান্টিন থাকবে যেখানে তারা সস্তায় খাবার খেতে পারবেন। পণ্য এবং খাবারের দাম স্থানীয় দোকানের তুলনায় কম হবে যাতে তারা আরও গ্রাহক আকর্ষণ করতে পারে এবং লাভ বাড়াতে পারে। মুক্তিকুঞ্জ একটি ব্যবসায়িক প্রকল্প স্থাপন এবং ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে যার মুনাফার একটি অংশ তাদের মুক্তিকুঞ্জ তহবিলে রাখা হবে, যা পরবর্তীতে প্রকল্পের জন্য ব্যবহৃত হবে। একজন ব্যক্তি রেস্টুরেন্ট এবং শপ পরিচালনা করবেন যা তাকে ব্যবসায়ীক সুযোগ প্রদান করবে। কমিউনিটির বাসিন্দারা এসব পণ্যে ১০% ডিসকাউন্ট পাবেন।

Project Overview

শিক্ষার সুযোগ

মুক্তিকুঞ্জর ছাদে একটি মসজিদ নির্মিত হবে যেখানে শিশুদের ইসলামিক শিক্ষা দেওয়া হবে। সব শিশুদের জন্য বাধ্যতামূলক থাকবে যাতে তারা মৌলিক ইসলামিক জ্ঞান অর্জন করতে পারে।

Project Overview

মুক্তিকুঞ্জর ছাদ প্রকল্প

মুক্তিকুঞ্জর ছাদে আরও কিছু ব্যবস্থা থাকবে, যার মধ্যে একটি মসজিদ থাকবে যেখানে নিয়মিত নামাজ এবং ইসলামিক শিক্ষা দেওয়া হবে, যা সব শিশুদের জন্য বাধ্যতামূলক। ছাদের অবশিষ্ট জায়গায় বিয়ে, ইভেন্ট এবং অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেওয়া হবে। বাইরের মানুষ ভাড়া নিতে পারবেন, তবে বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ ছাড় থাকবে। এই ভাড়ার থেকে প্রাপ্ত আয় মুক্তিকুঞ্জর তহবিলে জমা হবে এবং কমিউনিটির উন্নয়নে সহায়তা করবে।

Project Overview

মুক্তিকুঞ্জ বৃদ্ধাশ্রম প্রকল্প

মুক্তিকুঞ্জ আবাসিক প্রকল্পে আগে থেকে থাকতেছেন তাদের মধ্যে প্রবীণ, কর্মে অক্ষম এবং পরিবারের কারও থেকে ভরনপোষণ পাচ্ছেন না তাদের জন্য প্রবীণ কেয়ার বা বৃদ্ধাশ্রমের ব্যবস্থা থাকবে । এমন নির্ভরশীল ব্যক্তিদের জন্য আলাদা নিরাপদ ও আরামদায়ক আবাসন থাকবে, যেখানে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিশ্চিন্তে দিন কাটাতে পারেন। কর্মে অক্ষম প্রবীণদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যকর খাবার সরবরাহ করা হবে, যাতে তারা কোনো ধরনের দুশ্চিন্তা ছাড়াই সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।এখানে বসবাসকারী প্রবীণরা একাকীত্বে ভুগবেন না। কারণ, তাদের জন্য একটি সহমর্মিতাপূর্ণ পরিবেশ থাকবে যেখানে তারা নিজেদের পরিবারের মতো অনুভব করতে পারেন। পাশাপাশি মানসিক স্বস্তি ও সামাজিক সংযোগ বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম ও বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে তারা আনন্দময় সময় কাটাতে পারেন।মুক্তিকুঞ্জের লক্ষ্য প্রবীণদের সুরক্ষিত, সম্মানজনক ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করা। তারা যেন সমাজের বোঝা নয়, বরং সম্মানের সাথে সুন্দর জীবন কাটাতে পারেন, সে লক্ষ্যেই মুক্তিকুঞ্জ প্রকল্প কাজ করবে।

বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা

১৯৯১ সাল থেকে, মুক্তি সংগঠনের অধীনে জাহানারা ক্লিনিকটি কমিউনিটির সেবা প্রদান করে আসছে। এই ক্লিনিকটি এলাকাবাসীর জন্য বিনামূল্যে এবং সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদান অব্যাহত রাখবে। শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ক্লিনিকটি টোকেন সিস্টেমে পরিচালিত হয়। রোগীরা ২০ টাকা (মার্কিন ডলার $০.০৬ এর সমপরিমাণ) নামমাত্র ফিতে একটি টোকেন ক্রয় করবেন, যা শুধুমাত্র প্রশাসনিক খরচের জন্য ব্যয় করা হয়। এই টোকেনটি সিরিয়াল নম্বর প্রদান করে এবং সাপ্তাহিক ডাক্তারি পরামর্শের জন্য একটি সিরিয়াল নিশ্চিত করে। অতিরিক্ত ২০ টাকার টোকেন দিয়ে রোগীরা রক্ত, প্রস্রাব এবং ডায়াবেটিসসহ যে কোনো সংখ্যক মৌলিক পরীক্ষার সুবিধা নিতে পারবেন, যা সম্পূর্ণ মুক্তির আওতায় অন্তর্ভুক্ত। একটি চিকিৎসক, যিনি মহানুভবতার সাথে প্রতি সপ্তাহে মুক্তিকুঞ্জায় পরিদর্শনে সম্মত হয়েছেন, তাকে মুক্তি সংগঠনের পক্ষ থেকে তার মূল্যবান সেবার জন্য একটি সম্মানী প্রদান করা হয়। এভাবে ক্লিনিকটি ধারাবাহিক ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান নিশ্চিত করে।

Project Overview